প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক >

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার তিনি, থাকেন ৪০০ বর্গফুটের বাড়িতে

article-img

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ইলন মাস্ক।  তার মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তার সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে অবিশ্বাস্য এই সম্পদের মালিক হয়েও মাস্কের ব্যক্তিগত জীবনযাপন বেশ সাধারণ।

স্পেসএক্সের আইপিওতে সম্পদে নতুন রেকর্ড

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্পেসএক্সের আইপিওতে ৫৫ কোটিরও বেশি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে বিক্রি হয়। এতে কোম্পানিটি ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে এবং এর বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

পরদিন শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ১৬২ ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে স্পেসএক্স ও টেসলাতে থাকা মাস্কের শেয়ারের মূল্য হিসাব করে তার মোট সম্পদ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি দাঁড়ায়। 

থাকেন ছোট্ট বাড়িতে

অগাধ সম্পদের মালিক হলেও মাস্কের প্রধান বাসস্থান একটি ছোট প্রিফ্যাব বা পূর্বনির্মিত বাড়ি। ২০২০ সালে টেক্সাসে চলে যাওয়ার পর তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বেশিরভাগ বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রি করে দেন।

যদিও অস্টিনের কাছে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের কয়েকটি সম্পত্তি তিনি কিনেছেন, তবুও তার মূল বাসস্থান হলো টেক্সাসের বোকা চিকা এলাকায় স্পেসএক্সের স্টারবেস কেন্দ্রের কাছে একটি ছোট বাড়ি।

২০২১ সালে মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘আমার প্রধান বাসা মূলত ৫০ হাজার ডলারের একটি বাড়ি, যা আমি স্পেসএক্সের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছি। তবে এটি দারুণ।’

মাত্র ২০ ফুট × ২০ ফুটের বাড়ি

বাড়িটি নির্মাণ করেছে আবাসন স্টার্টআপ ‘বক্সঅ্যাবল’।  এর আয়তন মাত্র ২০ ফুট × ২০ ফুট। ছোট হলেও এতে বসার জায়গা, শোবার ঘর, রান্নাঘর এবং গোসলখানার ব্যবস্থা রয়েছে।

এই সাধারণ বাড়ির বিপরীতে মাস্ক-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর মালিকানায় অস্টিনের অভিজাত ওয়েস্ট লেক হিলস এলাকায় একাধিক বড় বাড়ি রয়েছে। এসব বাড়ির আয়তন ৬ হাজার থেকে ৯ হাজার বর্গফুট এবং সেখানে সুইমিং পুলও আছে।

কাজকেন্দ্রিক জীবনযাপন

মাস্ক বরাবরই নিজের কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন। ২০২৩ সালে তার জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসন বাড়িটির ভেতরের ছবি প্রকাশ করেন এবং এটিকে ‘অত্যন্ত সাধারণ দুই বেডরুমের বাড়ি’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, মাস্ক সেখানে একটি কাঠের টেবিলে বসে নিয়মিত ফোনকল ও কাজ করতেন।

ছেলের বাড়ি নিয়ে যা বললেন মা

মাস্কের মা মায়ে মাস্ক চলতি বছর ছেলের বাড়িতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

তিনি লেখেন, ‘ফ্রিজে কোনো খাবার ছিল না। আমি গ্যারেজে ঘুমিয়েছিলাম। বাথরুমে মাত্র একটি তোয়ালে ছিল, তাই সেটি ইলনের জন্য রেখে দিয়েছিলাম। এতে আমার কোনো সমস্যা হয়নি। ছোটবেলায় আমি কালাহারি মরুভূমিতে টানা তিন সপ্তাহ গোসল ছাড়া থেকেছি। তখন পানিও ছিল না। সম্ভবত আমার বাবা-মা আমাকে এই ‘বিলাসিতার’ জন্যই প্রস্তুত করেছিলেন।’

সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মাস্কের এই জীবনযাপন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।  একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পরও ইলন মাস্ক সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন। তার অর্থসম্পদ নিয়ে যারা ক্ষুব্ধ, তারা হয়তো শুধু ঈর্ষান্বিত।’

আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘আমি চাই এমন মানুষই ট্রিলিয়নিয়ার হোক। তিনি নিজের সম্পদ প্রদর্শন করেন না। তার মোট সম্পদের ৯৯ শতাংশেরও বেশি কোম্পানির পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত।’

তবে সবাই একমত নন। এক রেডিট ব্যবহারকারী দাবি করেন, মাস্কের এই সাধারণ জীবনযাপনের চিত্র মূলত জনসাধারণের কাছাকাছি মানুষ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার কৌশল। 

তার মতে, বাস্তবে বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা ধরে রেখে তিনি বিপুল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করেন, যদিও অনেকেই তাকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দেখেন।